আপনার কর, আমাদের সহজ সমাধানপেশাদার সহায়তা, প্রতিটি ধাপেযোগাযোগ করুন
← ব্লগ ও গাইড
আয়কর ও ভ্যাটএইচ এম বায়েজিদ বোস্তামী

বাংলাদেশে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম ২০২৬–২০২৭

বাংলাদেশে ২০২৬–২০২৭ করবর্ষে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ই-টিআইএন নিবন্ধন, কর পরিশোধ ও রিটার্ন সাবমিট করার সম্পূর্ণ গাইড জানুন।

বাংলাদেশে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম ২০২৬–২০২৭

বাংলাদেশে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার নিয়ম ২০২৬–২০২৭: সম্পূর্ণ গাইড

বাংলাদেশে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে ঘরে বসেই আয়, বিনিয়োগ, সম্পদ ও দায়ের তথ্য দিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। ফলে করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের জন্য বারবার আয়কর অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন কমেছে।

২০২৬–২০২৭ করবর্ষে যাঁরা চাকরি, ব্যবসা, বাড়িভাড়া, বিনিয়োগ বা অন্যান্য উৎস থেকে আয় করেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই গাইডে আমরা জানব, কীভাবে ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্ট খুলবেন, কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন হবে, কীভাবে কর হিসাব করবেন এবং অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পর প্রমাণপত্র সংগ্রহ করবেন।

২০২৬–২০২৭ করবর্ষ বলতে কী বোঝায়?

বাংলাদেশে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে আয়বর্ষ ও করবর্ষের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

- করবর্ষ: ২০২৬–২০২৭
- আয়বর্ষ: ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬
- রিটার্ন দাখিলের পোর্টাল: https://etaxnbr.gov.bd

অর্থাৎ, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আপনার আয়, প্রযোজ্য ব্যয়, বিনিয়োগ, সম্পদ ও দায়ের তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬–২০২৭ করবর্ষের রিটার্ন প্রস্তুত করতে হবে।

কারা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন?

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৬–২০২৭ করবর্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।

বিশেষভাবে যাঁদের রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন হতে পারে, তাঁরা হলেন:

- বেসরকারি ও সরকারি চাকরিজীবী।
- ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা।
- বাড়িভাড়া থেকে আয় করেন এমন ব্যক্তি।
- ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদ থেকে আয় করেন এমন ব্যক্তি।
- আইন অনুযায়ী যাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়।
- যাঁদের নির্দিষ্ট সরকারি, ব্যাংকিং বা অন্যান্য সেবার জন্য রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন।

তবে শুধু আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলেই যে রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন নেই, তা নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে।

অনলাইন রিটার্নের ব্যতিক্রম: ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি, প্রযোজ্য সনদসহ প্রতিবন্ধী করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য শ্রেণির করদাতার জন্য কাগজে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে। ই-রিটার্নে নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে জমা দিতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনসাপেক্ষে কাগজে রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে [জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট https://nbr.gov.bd/ দেখুন।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে কী কী প্রয়োজন?

রিটার্ন দাখিল শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত করে নিলে পুরো প্রক্রিয়া সহজ হয়।

প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রের তালিকা:

১. ই-টিআইএন সনদ ও ১২ সংখ্যার টিআইএন নম্বর।

২. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।

৩. নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।

৪. বেতনভুক্ত হলে বেতন বিবরণী, বেতন সনদ এবং উৎসে কর কর্তনের তথ্য।

৫. ব্যবসা থাকলে আয়-ব্যয়ের হিসাব ও প্রাসঙ্গিক আর্থিক নথি।

৬. ব্যাংক হিসাবের সুদ, মুনাফা বা অন্যান্য আর্থিক আয়ের তথ্য।

৭. বাড়িভাড়া, কৃষি, মূলধনি লাভ বা অন্যান্য উৎস থেকে আয়ের বিবরণ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে।

৮. অনুমোদিত বিনিয়োগের প্রমাণপত্র, যদি কর রেয়াত দাবি করা হয়।

৯. ব্যাংক ব্যালেন্স, জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য সম্পদের তথ্য।

১০. ঋণ, দায় ও পারিবারিক ব্যয়ের প্রাসঙ্গিক বিবরণ।

১১. আগে কর পরিশোধ করে থাকলে চালান, উৎসে কর কর্তনের প্রমাণ বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি।

সব নথি অনলাইনে আপলোড করতে হবে—এমন নয়। বর্তমান ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় সাধারণত প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হয়; তবে তথ্য যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংরক্ষণ করা জরুরি।

ধাপে ধাপে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম

ধাপ ১: NBR-এর ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

প্রথমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিসিয়াল ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করুন:

https://etaxnbr.gov.bd

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর আপনার অ্যাকাউন্ট আগে থেকে থাকলে সাইন ইন করুন। নতুন ব্যবহারকারী হলে নিবন্ধন করতে হবে।

ধাপ ২: ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করুন

নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরির জন্য সাধারণত নিচের কাজগুলো করতে হয়:

১. ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে “I am not registered yet” অপশন নির্বাচন করুন।

২. আপনার টিআইএন ও প্রয়োজনীয় মোবাইল নম্বর দিন।

৩. পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

৪. মোবাইলে পাওয়া OTP দিয়ে যাচাই সম্পন্ন করুন।

৫. একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।

মোবাইল নম্বরটি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হতে হবে। নিবন্ধনে সমস্যা হলে NBR-এর নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

ধাপ ৩: অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করুন

নিবন্ধন সম্পন্ন হলে টিআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

এরপর আপনার প্রোফাইলের ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করুন। নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্যের মধ্যে ভুল থাকলে রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে তা সংশোধনের ব্যবস্থা নিন।

ধাপ ৪: Assessment Information পূরণ করুন

লগইন করার পর “Return Submission” মেনুতে প্রবেশ করুন।

এখানে প্রযোজ্য করবর্ষ, আয়বর্ষ, করদাতার ধরন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য নির্বাচন বা পূরণ করতে হবে।

২০২৬–২০২৭ করবর্ষের রিটার্নের ক্ষেত্রে আয়বর্ষ হবে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬।

প্রতিটি তথ্য আপনার প্রকৃত পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে পূরণ করুন।

ধাপ ৫: আয়ের উৎস নির্বাচন করুন

এরপর আপনার আয়ের খাত অনুযায়ী তথ্য দিতে হবে। সাধারণত প্রাসঙ্গিক খাতগুলো হলো:

- চাকরি থেকে আয়।
- বাড়িভাড়া থেকে আয়।
- কৃষি থেকে আয়।
- ব্যবসা বা পেশা থেকে আয়।
- মূলধনি লাভ।
- আর্থিক সম্পদ থেকে আয়।
- অন্যান্য উৎস থেকে আয়।

আপনার যে যে উৎস থেকে আয় হয়েছে, সেগুলোর তথ্য সংশ্লিষ্ট ঘরে দিন। একাধিক উৎস থেকে আয় হলে সব প্রযোজ্য খাত অন্তর্ভুক্ত করুন।

শুধু ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া টাকা দেখে আয় নির্ধারণ করবেন না; প্রকৃত আয়ের ধরন ও প্রযোজ্য করবিধি অনুযায়ী হিসাব করুন।

ধাপ ৬: বিনিয়োগ ও কর রেয়াতের তথ্য দিন

আপনি যদি আইন অনুযায়ী কর রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ করে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট অংশে সেই তথ্য দিন।

বিনিয়োগের ধরন ও পরিমাণের ভিত্তিতে কতটুকু কর রেয়াত পাওয়া যাবে, তা প্রযোজ্য বিধানের ওপর নির্ভর করে। সব বিনিয়োগের পুরো অর্থ কর থেকে বাদ দেওয়া যায় না।

তাই অনুমোদিত বিনিয়োগের প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করুন এবং প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে দাবি উপস্থাপন করুন।

ধাপ ৭: সম্পদ, দায় ও পারিবারিক ব্যয়ের বিবরণ পূরণ করুন

রিটার্নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে আপনার সম্পদ, দায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের তথ্য দিতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ:

- ব্যাংকে জমা টাকা ও নগদ অর্থ।
- জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাট।
- গাড়ি ও অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ।
- সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ও অন্যান্য বিনিয়োগ।
- ব্যক্তিগত বা অন্যান্য ঋণ।
- পারিবারিক ও জীবনযাত্রার ব্যয়।

আগের বছরের তথ্য সিস্টেমে পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ করুন। পুরোনো তথ্য অপরিবর্তিত রেখে জমা দিলে সম্পদ ও দায়ের হিসাব ভুল হতে পারে।

ধাপ ৮: প্রদেয় আয়কর হিসাব করুন

আপনার আয়, অনুমোদিত ছাড়, কর রেয়াত এবং আগে পরিশোধিত করের তথ্যের ভিত্তিতে সিস্টেমে করের হিসাব তৈরি হতে পারে।

এখানে বিশেষভাবে যাচাই করুন:

- মোট আয় সঠিকভাবে দেখানো হয়েছে কি না।
- করমুক্ত আয় বা অনুমোদিত ছাড় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না।
- উৎসে কর্তিত করের তথ্য ঠিক আছে কি না।
- অগ্রিম পরিশোধিত কর সঠিকভাবে সমন্বয় হয়েছে কি না।
- অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে, নাকি ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কর হিসাবের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের প্রযোজ্য আইন ও করহার অনুসরণ করতে হবে।

ধাপ ৯: প্রযোজ্য কর অনলাইনে পরিশোধ করুন

যদি অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হয়, তাহলে পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।

পেমেন্টের জন্য উপলভ্য মাধ্যমের মধ্যে ব্যাংকিং সেবা, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো অনুমোদিত মোবাইল আর্থিক সেবা থাকতে পারে।

পেমেন্টের আগে টাকার পরিমাণ ও করের বিবরণ যাচাই করুন। লেনদেনের রসিদ বা চালান সংরক্ষণ করুন।

ধাপ ১০: রিটার্ন যাচাই করে সাবমিট করুন

চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার আগে সম্পূর্ণ রিটার্ন আবার পর্যালোচনা করুন।

বিশেষ করে নাম, টিআইএন, আয়, বিনিয়োগ, সম্পদ, দায় ও কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করুন।

সব তথ্য সঠিক থাকলে “Submit” বা পোর্টালে প্রদর্শিত চূড়ান্ত জমাদানের অপশন ব্যবহার করুন।

মনে রাখবেন, শুধু তথ্য পূরণ করে সেভ করা আর রিটার্ন চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়া এক বিষয় নয়। সফলভাবে সাবমিট হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কী করবেন?

অনলাইনে রিটার্ন সফলভাবে জমা হলে সাধারণত সিস্টেম থেকে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র বা Acknowledgement Slip পাওয়া যায়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ট্যাক্স সার্টিফিকেট ও জমা দেওয়া রিটার্নের কপিও ডাউনলোড করা যায়।

এ জন্য:

১. ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করুন।

২. “Tax Record” মেনুতে যান।

৩. প্রাপ্তিস্বীকারপত্র, রিটার্নের কপি ও উপলভ্য ট্যাক্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন।

৪. প্রয়োজন অনুযায়ী PDF ফাইল সংরক্ষণ বা প্রিন্ট করুন।

রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রমাণ ভবিষ্যতে ব্যাংকিং, ঋণ, নির্দিষ্ট সরকারি সেবা বা অন্যান্য প্রয়োজনে কাজে লাগতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট সেবার নিজস্ব শর্তও প্রযোজ্য হবে।

২০২৬–২০২৭ করবর্ষে রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময়

বাংলাদেশে স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য সাধারণ নিয়মে করদিবস ৩০ নভেম্বর। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করবর্ষে সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে।

২০২৬–২০২৭ করবর্ষের ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত তারিখ ও বিলম্বে জমা দেওয়ার আর্থিক প্রভাব জানতে NBR-এর সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করুন।

NBR-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: https://nbr.gov.bd/

সময়সীমা পেরিয়ে গেলে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত কর, সুদ বা জরিমানার বিষয় আসতে পারে। তাই শুধু আগের বছরের সময়সীমার ওপর নির্ভর না করে বর্তমান নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সাধারণ ভুল ও সমাধান

১. OTP না আসা

মোবাইল নম্বর সঠিক কি না যাচাই করুন। সিমের নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যা থাকলে মোবাইল অপারেটর বা NBR-এর সহায়তা নিন।

২. টিআইএন ও ব্যক্তিগত তথ্যের অমিল

টিআইএন প্রোফাইল ও ই-রিটার্নের তথ্য মিলিয়ে দেখুন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংশোধন করে পুনরায় চেষ্টা করুন।

৩. উৎসে কর্তিত কর সমন্বয় না হওয়া

নিয়োগকর্তার কর কর্তনের সনদ, ব্যাংকের বিবরণী বা প্রযোজ্য চালান যাচাই করুন। প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে না মিললে সিস্টেমে ভুল কর সমন্বয় হতে পারে।

৪. সম্পদ ও দায়ের হিসাবের অসংগতি

আগের বছরের সম্পদের সঙ্গে বর্তমান বছরের পরিবর্তন মিলিয়ে দেখুন। নতুন সম্পদ কেনা, ঋণ গ্রহণ বা সম্পদ বিক্রির তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করুন।

৫. রিটার্ন পূরণ করেও জমা না হওয়া

রিটার্নের সব বাধ্যতামূলক ঘর পূরণ হয়েছে কি না দেখুন। সাবমিশন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রাপ্তিস্বীকারপত্র পাওয়া গেছে কি না যাচাই করুন।

প্রয়োজনে NBR-এর ই-রিটার্ন নির্দেশিকা অথবা অফিসিয়াল সহায়তা চ্যানেলের সাহায্য নিন।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুবিধা

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বেশ কয়েকটি সুবিধা রয়েছে:

- ঘরে বসে রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দেওয়া যায়।
- অনেক ক্ষেত্রে আয়কর অফিসে সরাসরি যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।
- কর পরিশোধের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করা যায়।
- রিটার্ন জমার প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় নথি ডাউনলোড করা যায়।
- আগের বছরের তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই ও হালনাগাদ করা যায়।
- রিটার্নের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা সহজ হয়।

তবে এসব সুবিধা কাজে লাগাতে হলে সঠিক তথ্য দেওয়া, প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ এবং চূড়ান্ত সাবমিশন নিশ্চিত করা জরুরি।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে কি ই-টিআইএন প্রয়োজন?

উত্তর: হ্যাঁ, সাধারণত ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিলের জন্য টিআইএন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র-ভিত্তিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন।

প্রশ্ন ২: মোবাইল দিয়ে কি আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যায়?

উত্তর: কিছু কাজ মোবাইলে করা সম্ভব হলেও সব সুবিধা মোবাইলে সমানভাবে কাজ নাও করতে পারে। তাই NBR-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ ব্যবহার করা সুবিধাজনক।

প্রশ্ন ৩: অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কি কাগজপত্র আয়কর অফিসে জমা দিতে হয়?

উত্তর: সাধারণভাবে সফলভাবে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করলে একই রিটার্ন আবার অফিসে জমা দিতে হয় না। তবে বিশেষ কোনো নথি বা যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

প্রশ্ন ৪: আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলে কি রিটার্ন দিতে হবে?

উত্তর: পরিস্থিতিভেদে দিতে হতে পারে। আয় ছাড়াও নির্দিষ্ট পেশা, আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন হওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে।

প্রশ্ন ৫: রিটার্ন জমা দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে কী করবেন?

উত্তর: ভুলের ধরন অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগ ও সময়সীমা যাচাই করতে হবে। NBR-এর বর্তমান নিয়ম অনুসরণ করে সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা নিন।

প্রশ্ন ৬: অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পর প্রমাণপত্র কোথায় পাওয়া যাবে?

উত্তর: ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্টের “Tax Record” মেনুতে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র এবং সিস্টেমে উপলভ্য অন্যান্য নথি পাওয়া যেতে পারে।

উপসংহার

বাংলাদেশে ২০২৬–২০২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা দেওয়ার জন্য প্রথমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন, ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্টে নিবন্ধন করুন, আয়ের সঠিক তথ্য দিন এবং সম্পদ ও দায়ের হিসাব যাচাই করে রিটার্ন সাবমিট করুন।

সবশেষে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করুন। করের হিসাব জটিল হলে অথবা ব্যবসায়িক আয়, একাধিক আয়ের উৎস কিংবা সম্পদের হিসাব থাকলে অভিজ্ঞ কর পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া ভালো।

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: https://etaxnbr.gov.bd

তথ্যসূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR), বাংলাদেশ—ই-রিটার্ন নির্দেশিকা ও আয়করসংক্রান্ত FAQ।

দ্রষ্টব্য: করসংক্রান্ত নিয়ম, সময়সীমা ও বিশেষ আদেশ পরিবর্তিত হতে পারে। রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে NBR-এর সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করুন। এই ব্লগটি সাধারণ তথ্যের জন্য; ব্যক্তিগত কর পরামর্শের বিকল্প নয়।

সেবা গ্রহণের অনুরোধ করুন
সেবা গ্রহণের অনুরোধ করুন