আপনার কর, আমাদের সহজ সমাধানপেশাদার সহায়তা, প্রতিটি ধাপেযোগাযোগ করুন
← ব্লগ ও গাইড
আয়কর রিটার্ন গাইডমোহাম্মদ এমদাদুল হক (আইটিপি) । আয়কর আইনজীবী সদস্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

আয়কর রিটার্ন জমা দিতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

আয়কর রিটার্ন জমা দিতে কী কী কাগজপত্র লাগে জানুন। চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও e-Return নিয়ম ২০২৬–২০২৭

আয়কর রিটার্ন জমা দিতে কী কী কাগজপত্র লাগে জানুন। চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও e-Return নিয়ম ২০২৬–২০২৭
বাংলাদেশে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য প্রস্তুত রাখা জরুরি। আপনি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা ফ্রিল্যান্সার—যাই হোন না কেন, সঠিক তথ্য ও কাগজপত্র থাকলে সহজেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

চলুন জেনে নিই, আয়কর রিটার্ন জমা দিতে কী কী কাগজপত্র লাগে।

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সাধারণত নিচের কাগজপত্র ও তথ্য প্রয়োজন হতে পারে:

  1. e-TIN সার্টিফিকেট: করদাতার ১২ সংখ্যার TIN নম্বর।

  2. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): ব্যক্তিগত তথ্য যাচাইয়ের জন্য।

  3. মোবাইল নম্বর: e-Return নিবন্ধনের জন্য নিজের NID দিয়ে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।

  4. আয়ের প্রমাণপত্র: বেতন সনদ, ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব বা অন্যান্য আয়ের বিবরণ।

  5. ব্যাংক স্টেটমেন্ট: ব্যাংক হিসাব, সুদ ও অন্যান্য লেনদেনের তথ্য।

  6. বিনিয়োগের কাগজপত্র: সঞ্চয়পত্র, জীবনবিমা বা প্রযোজ্য বিনিয়োগের প্রমাণ।

  7. সম্পদ ও দায়ের বিবরণ: জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স ও ঋণের তথ্য, যেখানে প্রযোজ্য।

  8. উৎসে কর কর্তনের প্রমাণ: TDS সার্টিফিকেট বা কর পরিশোধের চালান, যদি থাকে।

সব করদাতার জন্য একই কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। আয়ের উৎস ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য ভিন্ন হতে পারে।

চাকরিজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

চাকরিজীবীদের সাধারণত বেতন সনদ, বার্ষিক বেতন বিবরণী, উৎসে কর কর্তনের প্রমাণ এবং প্রযোজ্য বিনিয়োগের কাগজপত্র প্রয়োজন হয়।

ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব, লাভ-ক্ষতির বিবরণী, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যবসাসংক্রান্ত কর পরিশোধের প্রমাণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য আর্থিক নথি প্রস্তুত রাখতে হয়।

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ফ্রিল্যান্সারদের আয় গ্রহণের প্রমাণ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্লায়েন্টের পেমেন্ট রেকর্ড এবং কাজসংক্রান্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রয়োজন হতে পারে।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) e-Return ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যায়।

ওয়েবসাইট: https://etaxnbr.gov.bd

প্রথমে e-Return অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। এরপর আয়, ব্যয়, বিনিয়োগ, সম্পদ ও দায়ের প্রযোজ্য তথ্য পূরণ করে রিটার্ন জমা দিন।

সাধারণভাবে অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সময় সব কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না। তবে তথ্য সঠিকভাবে পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি নিজের কাছে সংরক্ষণ করা উচিত।

আয়কর রিটার্ন নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

১. e-TIN থাকলেই কি আয়কর দিতে হবে?

না। আয়কর দিতে হবে কি না, তা করযোগ্য আয় ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। তবে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আলাদা বিষয়।

২. আয় না থাকলে কি রিটার্ন জমা দিতে হয়?

কিছু ক্ষেত্রে আয় না থাকলেও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রকৃত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী রিটার্ন জমা দিতে হবে।

৩. আয়কর রিটার্ন কি ঘরে বসে জমা দেওয়া যায়?

হ্যাঁ। NBR-এর e-Return সিস্টেম ব্যবহার করে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যায়।

উপসংহার

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আর্থিক তথ্য প্রস্তুত রাখলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা কমে এবং রিটার্ন দাখিল সহজ হয়।

আয়কর রিটার্ন তৈরি বা অনলাইনে জমা দিতে সহায়তা প্রয়োজন? আমাদের রিটার্ন সেবার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিতে পারেন।

তথ্যসূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR), বাংলাদেশ। নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে, তাই রিটার্ন দাখিলের আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করুন।

এই বিষয়ে সেবার সহায়তা

সেবা গ্রহণের অনুরোধ করুন
সেবা গ্রহণের অনুরোধ করুন