আপনার কর, আমাদের সহজ সমাধানপেশাদার সহায়তা, প্রতিটি ধাপেযোগাযোগ করুন
← ব্লগ ও গাইড
আয়কর ও ই-টিআইএন গাইডমোঃ শামীম মোস্তফা (আইটিপি)। আয়কর আইনজীবী সদস্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

e-TIN সার্টিফিকেট করার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

অনলাইনে e-TIN সার্টিফিকেট করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, TIN রেজিস্ট্রেশন, খরচ ও সার্টিফিকেট ডাউনলোড করার সম্পূর্ণ গাইড জানুন।

e-TIN সার্টিফিকেট করার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বাংলাদেশে চাকরি, ব্যবসা, ব্যাংকিং ও বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমে e-TIN সার্টিফিকেট একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) অনলাইন সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই ই-টিআইএন নিবন্ধন করা যায়।

কিন্তু অনেকেই জানেন না, e-TIN সার্টিফিকেট কীভাবে করতে হয়, কী কী কাগজপত্র লাগে, কত টাকা খরচ হয় এবং সার্টিফিকেট কীভাবে ডাউনলোড করতে হয়।

এই আর্টিকেলে আমরা e-TIN সার্টিফিকেট করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র, অনলাইন আবেদন পদ্ধতি এবং আয়কর রিটার্নের সঙ্গে এর সম্পর্ক বিস্তারিত আলোচনা করব।

e-TIN সার্টিফিকেট কী?

e-TIN-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic Taxpayer Identification Number। এটি বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) কর্তৃক প্রদান করা একটি ১২ সংখ্যার করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর।

এই নম্বরের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আয়কর ব্যবস্থায় শনাক্ত করা হয়।

সহজভাবে বললে, e-TIN সার্টিফিকেট হলো আপনার করদাতা হিসেবে নিবন্ধনের প্রমাণপত্র।

এটি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।

e-TIN সার্টিফিকেট কেন প্রয়োজন?

বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক, পেশাগত ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে e-TIN প্রয়োজন হতে পারে।

যেমন:

  1. আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য।

  2. ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ বা নবায়নের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে।

  3. ব্যাংক ঋণ গ্রহণের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে।

  4. জমি বা ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ের নির্দিষ্ট লেনদেনে।

  5. কোম্পানি নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে।

  6. ঠিকাদারি ও টেন্ডারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে।

  7. বিভিন্ন পেশাগত ও আর্থিক কার্যক্রমে।

  8. আইন অনুযায়ী করদাতা হিসেবে নিবন্ধনের প্রয়োজনে।

তবে সব ধরনের ব্যাংকিং বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে e-TIN বাধ্যতামূলক নয়। কোন কাজে e-TIN বা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন হবে, তা সংশ্লিষ্ট আইনি শর্তের ওপর নির্ভর করে।

e-TIN সার্টিফিকেট করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

e-TIN নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র আবেদনকারীর ধরনের ওপর নির্ভর করে।

১. প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য

সাধারণত নিচের তথ্যগুলো প্রস্তুত রাখতে হবে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী পূর্ণ নাম।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্মতারিখ।

  • সচল মোবাইল নম্বর।

  • বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য।

  • পেশা ও আয়ের উৎস সম্পর্কিত তথ্য।

অনলাইনে আবেদন করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সঠিকভাবে ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২. অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য

অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির e-TIN নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রয়োজন হয়:

  • আবেদনকারীর নাম।

  • অভিভাবকের নাম।

  • অভিভাবকের TIN নম্বর।

  • আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ডিজিটাল ছবি।

৩. বিদেশি নাগরিক বা NID-বিহীন আবেদনকারীর জন্য

আবেদনকারীর ধরন অনুযায়ী প্রয়োজন হতে পারে:

  • পাসপোর্ট নম্বর।

  • পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ।

  • ভিসার তথ্য, যেখানে প্রযোজ্য।

  • পাসপোর্ট সাইজের ডিজিটাল ছবি।

  • অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য।

৪. কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য

কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে:

  • প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত নাম।

  • নিবন্ধন নম্বর।

  • নিবন্ধনের তারিখ।

  • অনুমোদিত প্রতিনিধির তথ্য।

  • প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য।

নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ফার্মের ক্ষেত্রে অংশীদারদের নাম ও TIN নম্বরসহ অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।

অনলাইনে e-TIN সার্টিফিকেট করার নিয়ম ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন e-TIN নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন করদাতা নিবন্ধন করতে পারেন।

নিচে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া দেওয়া হলো।

ধাপ ১: e-TIN ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

প্রথমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের e-TIN নিবন্ধন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

ওয়েবসাইট: https://secure.incometax.gov.bd/TINHome

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর নতুন ব্যবহারকারী হিসেবে নিবন্ধনের অপশন নির্বাচন করুন।

ধাপ ২: নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন

নিবন্ধন পেজে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।

এ পর্যায়ে সাধারণত ব্যবহারকারীর নাম, পাসওয়ার্ড, মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়।

এরপর মোবাইল নম্বরে পাঠানো অ্যাক্টিভেশন কোডের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করতে হতে পারে।

ধাপ ৩: অ্যাকাউন্টে লগইন করুন

অ্যাকাউন্ট তৈরি সম্পন্ন হলে আপনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করুন।

এরপর TIN Application বা নিবন্ধনসংক্রান্ত অপশনে প্রবেশ করুন।

ধাপ ৪: করদাতার ধরন নির্বাচন করুন

আপনি কোন ধরনের করদাতা, তা নির্বাচন করতে হবে।

যেমন:

  • Individual (ব্যক্তি)।

  • Company (কোম্পানি)।

  • Firm (ফার্ম)।

  • অন্যান্য প্রযোজ্য করদাতা শ্রেণি।

আপনি যদি নিজের নামে e-TIN করতে চান, তাহলে সাধারণত Individual নির্বাচন করতে হবে।

ধাপ ৫: ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করুন

এবার আবেদন ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন।

যেমন:

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর।

  • জন্মতারিখ।

  • নাম ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য।

  • বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা।

  • পেশা ও আয়ের উৎস।

  • অন্যান্য প্রযোজ্য তথ্য।

গুরুত্বপূর্ণ: জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে আবেদন ফরমের তথ্য মিল থাকতে হবে। ভুল তথ্য দিলে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে সমস্যা হতে পারে।

ধাপ ৬: তথ্য যাচাই করে আবেদন জমা দিন

সব তথ্য পূরণ করার পর পুনরায় যাচাই করুন।

বিশেষ করে নাম, NID নম্বর, জন্মতারিখ এবং ঠিকানা সঠিক আছে কি না দেখে নিন।

এরপর আবেদন জমা দিন।

তথ্য যাচাই ও নিবন্ধন সফল হলে আপনার নামে একটি ১২ সংখ্যার e-TIN তৈরি হবে।

ধাপ ৭: e-TIN সার্টিফিকেট ডাউনলোড করুন

নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর সিস্টেমের সার্টিফিকেট দেখার বা প্রিন্ট করার অপশন ব্যবহার করে e-TIN সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন।

সার্টিফিকেটটি PDF আকারে সংরক্ষণ বা প্রিন্ট করে রাখতে পারেন।

নোট: সরকারি ওয়েবসাইটের ইন্টারফেস পরিবর্তন হলে বাটন বা অপশনের নাম কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

e-TIN সার্টিফিকেট করতে কত টাকা লাগে?

বাংলাদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সরকারি অনলাইন সিস্টেমে নিজে e-TIN নিবন্ধন করতে কোনো সরকারি ফি লাগে না।

অর্থাৎ আপনি নিজেই বিনামূল্যে e-TIN সার্টিফিকেট তৈরি করতে পারবেন।

তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিবন্ধন করালে তারা সেবা দেওয়ার জন্য আলাদা সার্ভিস চার্জ নিতে পারে। এটি সরকারি নিবন্ধন ফি নয়।

e-TIN সার্টিফিকেট ডাউনলোড করার নিয়ম

আপনার আগে থেকেই e-TIN থাকলে নতুন করে নিবন্ধন করার প্রয়োজন নেই।

সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য:

  1. সরকারি e-TIN ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

  2. আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।

  3. View TIN Certificate বা সংশ্লিষ্ট অপশন নির্বাচন করুন।

  4. সার্টিফিকেটের তথ্য যাচাই করুন।

  5. PDF সংরক্ষণ করুন অথবা প্রিন্ট করুন।

অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে সমস্যা হলে ওয়েবসাইটে থাকা পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা অনুসরণ করুন।

e-TIN সার্টিফিকেট থাকলে কি আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়?

এটি নতুন করদাতাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি।

e-TIN সার্টিফিকেট থাকা এবং আয়কর রিটার্ন দাখিল করা দুটি আলাদা বিষয়।

e-TIN হলো করদাতা হিসেবে নিবন্ধনের প্রমাণ। অন্যদিকে আয়কর রিটার্ন হলো নির্দিষ্ট করবর্ষে আপনার আয়, ব্যয়, বিনিয়োগ, সম্পদ, দায় এবং করসংক্রান্ত তথ্যের বিবরণী।

বাংলাদেশের আয়কর আইন, ২০২৩ এবং প্রযোজ্য সংশোধনী অনুযায়ী যাদের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হবে।

শুধু e-TIN থাকার কারণে সবার আয়কর পরিশোধ করতে হবে, এমন নয়। তবে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

আয় না থাকলে কি রিটার্ন জমা দিতে হবে?

আপনার আয় না থাকলেও আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে।

এক্ষেত্রে প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য অনুযায়ী রিটার্ন প্রস্তুত করতে হবে।

মনে রাখবেন, কর দিতে না হওয়া এবং রিটার্ন জমা দিতে না হওয়া একই বিষয় নয়।

e-TIN এবং e-Return-এর মধ্যে পার্থক্য

অনেকেই e-TIN ও e-Return-কে একই বিষয় মনে করেন। বাস্তবে এগুলোর উদ্দেশ্য আলাদা।

বিষয়e-TINe-Returnমূল উদ্দেশ্যকরদাতা নিবন্ধনআয়কর রিটার্ন দাখিলপরিচয়১২ সংখ্যার TINঅনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থাব্যবহারকরদাতা শনাক্তকরণআয় ও করসংক্রান্ত তথ্য জমাপ্রয়োজনীয়তানিবন্ধনের জন্যরিটার্ন দাখিলের জন্যসরকারি সেবাe-TIN পোর্টালe-Return পোর্টাল

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের e-Return ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যায়।

e-Return ওয়েবসাইট: https://etaxnbr.gov.bd

e-Return-এ নতুন অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের জন্য সাধারণত TIN এবং নিজের NID দিয়ে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হয়।

e-TIN সার্টিফিকেট করার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

e-TIN নিবন্ধনের সময় কয়েকটি সাধারণ ভুলের কারণে পরবর্তী সময়ে সমস্যায় পড়তে পারেন।

১. ভুল NID নম্বর ব্যবহার করা: জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর সঠিকভাবে লিখুন।

২. নাম ও জন্মতারিখে ভুল করা: NID অনুযায়ী তথ্য প্রদান করুন।

৩. ভুল পেশা বা আয়ের উৎস নির্বাচন করা: আপনার প্রকৃত পেশা ও আয়ের উৎস অনুযায়ী তথ্য দিন।

৪. অন্যের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা: সম্ভব হলে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা সচল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করুন।

৫. আগে TIN থাকা সত্ত্বেও নতুন নিবন্ধনের চেষ্টা করা: পুরোনো TIN থাকলে সেটি পুনরুদ্ধার বা সংশ্লিষ্ট তথ্য সংশোধনের পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

৬. পাসওয়ার্ড অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা: অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার জন্য পাসওয়ার্ড ও OTP গোপন রাখুন।

e-TIN সার্টিফিকেট সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

১. e-TIN সার্টিফিকেট কি অনলাইনে করা যায়?

হ্যাঁ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে e-TIN সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করা যায়।

২. e-TIN সার্টিফিকেট করতে কি টাকা লাগে?

না। সরকারি ওয়েবসাইটে নিজে নিবন্ধন করলে কোনো সরকারি ফি লাগে না।

৩. e-TIN সার্টিফিকেট করতে কত সময় লাগে?

তথ্য সঠিক থাকলে এবং সরকারি সিস্টেম সচল থাকলে অনেক ক্ষেত্রে একই সেশনে নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে তথ্য যাচাই বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বেশি সময় লাগতে পারে।

৪. e-TIN সার্টিফিকেট করতে কি NID লাগে?

প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি ব্যক্তির সাধারণ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য প্রয়োজন। বিশেষ শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য বিকল্প পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের ব্যবস্থা রয়েছে।

৫. e-TIN সার্টিফিকেট কি মোবাইল দিয়ে করা যায়?

সরকারি ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয় ফরম ও যাচাইয়ের ধাপ মোবাইল ব্রাউজারে সঠিকভাবে কাজ করলে আবেদন করা সম্ভব হতে পারে। তবে বড় স্ক্রিনের কারণে কম্পিউটার ব্যবহার তুলনামূলক সুবিধাজনক।

৬. e-TIN থাকলেই কি আয়কর দিতে হবে?

না। আয়কর পরিশোধের বিষয়টি আপনার করযোগ্য আয় ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। তবে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

৭. e-TIN সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে কী করব?

আপনার e-TIN অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে সার্টিফিকেট পুনরায় সংগ্রহ বা প্রিন্ট করতে পারবেন।

৮. একজন ব্যক্তির কি একাধিক e-TIN থাকতে পারে?

সাধারণভাবে একজন ব্যক্তির জন্য একটি করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর প্রযোজ্য। একই ব্যক্তির নামে একাধিক TIN তৈরির চেষ্টা না করে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া উচিত।

৯. e-TIN সার্টিফিকেট কি বাতিল করা যায়?

আইন অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে TIN নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। এটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নয় এবং সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের যাচাই ও অনুমোদনের বিষয় রয়েছে।

১০. e-TIN করার পর কী করতে হবে?

আপনার রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা যাচাই করুন। প্রযোজ্য হলে e-Return সিস্টেমে নিবন্ধন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করুন।

উপসংহার

বর্তমানে বাংলাদেশে e-TIN সার্টিফিকেট তৈরি করা আগের তুলনায় অনেক সহজ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন সেবার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করে ঘরে বসেই করদাতা নিবন্ধন করা সম্ভব।

তবে e-TIN সার্টিফিকেট তৈরি করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা, সঠিক তথ্য প্রদান করা এবং নিবন্ধনের পর আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার যদি e-TIN সার্টিফিকেট তৈরি, আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত অথবা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত সহায়তা প্রয়োজন হয়, তাহলে আমাদের রিটার্ন সেবার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতে পারেন।

সঠিক তথ্য দিয়ে e-TIN নিবন্ধন করুন এবং সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিলের বিষয়ে সচেতন থাকুন।

তথ্যসূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR), আয়কর আইন, ২০২৩ এবং সরকারি e-TIN ও e-Return নির্দেশিকা। করসংক্রান্ত আইন ও নিয়ম পরিবর্তনশীল; আবেদন বা রিটার্ন দাখিলের আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করুন।

এই বিষয়ে সেবার সহায়তা

সেবা গ্রহণের অনুরোধ করুন
সেবা গ্রহণের অনুরোধ করুন